মিয়ানমারে সংঘটিত ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ১,০০২-এ পৌঁছেছে
মিয়ানমারে সংঘটিত ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ১,০০২-এ পৌঁছেছে। দেশটির জান্তা সরকার জানিয়েছে, আহত হয়েছেন অন্তত ১,৬৭০ জন। ভূমিকম্পটি শুক্রবার (২৮ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সাগাইং শহরের নিকটবর্তী এলাকায় আঘাত হানে।
ভূমিকম্পের ফলে মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে রাস্তাঘাট, সেতু ও ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানী নেপিদোর ১,০০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে আহতদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, "অনেক আহত মানুষ আসছেন, আমরা আগে কখনো এমন পরিস্থিতি দেখিনি।"
উদ্ধারকাজে ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। মিয়ানমারের সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং আহতদের দেখতে হাসপাতালে পরিদর্শন করেছেন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। চীনা উদ্ধারকারী দল ইতোমধ্যে মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনে পৌঁছেছে এবং মান্দালায় ও নেপিদো শহরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।
ভূমিকম্পের প্রভাব মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলোতেও অনুভূত হয়েছে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ৭.৭ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়, যেখানে নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ে। এ ঘটনায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু এবং ৪৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বাংলাদেশেও কম্পন অনুভূত হলেও তেমন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) আশঙ্কা করছে, মিয়ানমারে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে, যাতে দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হয়।
